টাকার ১০টি সূত্র যা আপনার জীবন বদলে দেবে

by

টাকা হলো সুষ্ঠভাবে জীবনধারনের অন্যতম প্রয়োজনীয় উপাদান, এর ইতিহাস নিয়ে আগেই লিখেছি। আজ এই নিবন্ধে টাকার কতকগুলি সূত্রের কথা লিখবো যা প্রত্যেকেরই জেনে রাখা খুব দরকারি।

টাকার দশটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

১. Rule of 72 – টাকা দ্বিগুণ হওয়ার সময় 

আপনার সঞ্চয় করা টাকার পরিমাণ দ্বিগুন হতে ঠিক কতদিন সময় লাগবে বা আপনার খরচের পরিমাণ কত বছরে দ্বিগুণ হবে তা খুব সহজেই আপনি হিসেব করে ফেলতে পারেন এই Rule of 72 দিয়ে।

৭২ কে সুদের হার দিয়ে ভাগ করলে যে সময় পাওয়া যাবে সেটাই হলো টাকা দ্বিগুন হওয়ার সময়।

ধরা যাক আপনি ব্যাংকে আপনার সঞ্চিত অর্থ রেখেছেন যার পরিমাণ হলো ৫০ হাজার টাকা এবং আপনি বছরে ৩% হারে সুদ পান , এখন আপনার ওই ৫০ হাজার টাকা দ্বিগুন অর্থাৎ ১ লক্ষ টাকা হতে কত সময় লাগবে তা জানার জন্য ৭২ কে ৩ দিয়ে ভাগ করতে হবে।

৭২ / ৩ = ২৪,  অর্থাৎ ২৪ বছরে আপনার টাকা দ্বিগুন হবে।

২. Rule of 114 – টাকা তিনগুন হওয়ার সময় 

ঠিক আগের সূত্রের মতোই ১১৪ কে সুদের হার দিয়ে ভাগ করলেই টাকা তিনগুণ হওয়ার সময় পাওয়া যাবে। অর্থাৎ, একই টাকা যদি আমরা ধরি তাহলে আপনার ৫০ হাজার টাকা তিনগুন অর্থাৎ দেড়লক্ষ টাকা হতে সময় লাগবে ১১৪ / ৩ = ৩৮ বছর।

৩. Rule of 144 – টাকা চারগুন হওয়ার সময় 

আপনার ৫০ হাজার টাকা ৩% সুদের হারে চার গুন্ অর্থাৎ ২ লক্ষ টাকা হতে সময় লাগবে ১৪৪ / ৩ = ৪৮ বছর।

৪. Rule of 70 – মূল্যবৃদ্ধি বা মুদ্রাস্ফীতি 

আমাদের দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার অন্তত ৭% থাকেই, এর থেকে বেশিই থাকে , ৭০ কে এই মূল্যবৃদ্ধির হার দিয়ে ভাগ করলে আপনি জানতে পারবেন ঠিক কত বছরে আপনার খরচ দ্বিগুন হয়ে যাবে। ধরা যাক এখন আপনার মাসিক খরচ ২৫০০০ টাকা। 

৭০ / ৭ = ১০ বছর , অর্থাৎ ১০ বছর পরে আপনার মাসিক খরচ ৫০০০০ টাকা হয়ে যাবে বা বলা যেতে পারে তখনের ৫০ হাজার টাকার মূল্য এখনকার ২৫ হাজার টাকার সমান হবে।

আর্থিক-স্বাধীনতা-লাভের-জন্য-টাকার-সূত্র

৫.  4% withdrawal rule – আর্থিক স্বাধীনতা লাভের সূত্র 

আপনি কি ভাবেন ৬০ বছর হলে তবেই অবসর নিতে পারবেন ? একদমই না। ওসব ধারণা এখন অতীত। 4% withdrawal rule ব্যবহার করলে আপনি নিজেই হিসেব করতে পারবেন যে কখন আপনি অবসর নিতে পারবেন।

এখানে অবসর কথার অর্থ এই নয় যে আপনি আর কোনো কাজ না করে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকবেন, এই অবসরের অর্থ হলো আর্থিক স্বাধীনতা লাভ করা।

অর্থাৎ, যখন আপনাকে আর অস্তিত্বের লড়াইয়ের জন্য বা শুধুমাত্র সংসার নির্বাহের জন্য বাধ্য হয়ে চাকরি বা অন্য্ কোনো কাজ করতে হবে না। 

আপনি কাজ করবেন নিজের আনন্দের জন্য, নিজের শখের জন্য, নিজের ইচ্ছামতো, নিজের সময়মতো।

ধরুন এই মুহূর্তে আপনার সংসার খরচ হলো ২৫০০০ টাকা ,

অর্থাৎ বছরে শুধুমাত্র আপনার জীবনধারণের জন্য খরচ হয় ২৫০০০ X  ১২ = ৩ লক্ষ টাকা। 

এবার ভাবুন যদি আপনি নিশ্চিত থাকতেন যে আপনি প্রতি বছরই এই ৩ লক্ষ টাকা আপনাআপনিই পেতে থাকবেন তাহলে কি আপনাকে কোনো অপছন্দের চাকরি বাধ্য হয়ে করতে হতো ? 

নিশ্চয়ই না , তখন আপনি নিশ্চিন্তে নিজের ইচ্ছামতো কোনো কাজ শুরু করতে পারতেন বা ব্যবসা শুরু করতে পারতেন। 

এখন কথা হচ্ছে এই টাকা আপনাআপনি কি করে আসবে ? তার জন্য লাগবে 4% withdrawal rule

যে কোনো ব্যাঙ্কে আপনি যদি Fixed Deposit করেন তাহলে সেখানে টাকা হারাবার ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে , আর অন্তত 4% সুদ আপনি নিশ্চিতভাবে পাবেন ই।

তাহলে আপনাকে হিসেব করতে হবে যে আপনার ওই সারাবছরের খরচ কত টাকার 4% 

4% মানে হলো ১ / ২৫ ,  অর্থাৎ ৩ লক্ষ * ২৫ = ৭৫ লক্ষ টাকা 

আপনি যদি ৭৫ লক্ষ টাকার মূলধন ব্যাঙ্কে Fixed Deposit করে রাখেন তাহলে নিশ্চিতভাবে আপনার সারাবছরের খরচ সুদের টাকায় চলে যাবে এবং আপনি অবসর নিতে পারবেন বা বলা ভালো আর্থিকভাবে স্বাধীন হতে পারবেন।

৬. 100 – বয়সের সূত্র – সম্পদের বরাদ্দকরণ 

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বয়স যত কম হয় তত বেশি ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব হয় , Debt Instrument এর তুলনায় Equity Instruments এর ঝুঁকি সর্বদা বেশি হয় তাই। 

যদি আপনার বয়স হয় ২৫ তাহলে এই সূত্র অনুযায়ী ১০০ – ২৫ = ৭৫, আপনি যে পরিমান টাকা বিনিয়োগ করতে চান তার ৭৫% Equity খাতে ও ২৫% Debt খাতে বিনিয়োগ করতে পারেন। 

কিন্তু যদি আপনার বয়স হয় ৪০, সেক্ষেত্রে আপনি ১০০ – ৪০ = ৬০% ই Equity খাতে বিনিয়োগ করুন এবং ৪০% বিনিয়োগ করুন Debt খাতে।

৭. 10-5-3 Rule 

আপনার পোর্টফোলিওতে বিভিন্ন ধরণের বিনিয়োগ থাকা দরকার, কখনই শুধুমাত্র একটি জায়গায় সমস্ত টাকা ঢেলে দেবেন না।

এই সূত্র থেকে আপনি হিসেবে করতে পারেন কোথা থেকে আপনি কত সুদ পাবেন ,

যেমন যদি আপনি বছরে অন্তত ১০% সুদ আশা করেন তাহলে আপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ Equity Instruments এ বিনিয়োগ করতে হবে ,

তেমনই Debt Instruments এ বিনিয়োগ করে আপনি ৫% সুদ পেতে পারেন , আর আপনার ব্যাঙ্কের সেভিংস অ্যাকাউন্টে রাখা টাকা থেকে পাবেন ৩% সুদ।

আয়-ব্যয়ের-ভারসাম্য-রক্ষার-জন্য-টাকার-সূত্র

৮. 50-30-20 Rule – খরচের বরাদ্দকরণ 

আপনার মোট উপার্জনের (ট্যাক্স দেওয়ার পর) অন্তত ৫০% আপনি খরচ করুন প্রয়োজন অনুযায়ী (নিত্যদিনের খরচ, ইলেকট্রিক বিল, গ্যাস, ওষুধের খরচ, ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ ইত্যাদি),

এরপরে ৩০% আপনি রাখতে পারেন শখের খরচের জন্য ( বেড়াতে যাওয়া, নতুন মোবাইল কেনা, নতুন আসবাব কেনা ইত্যাদি), বাকি ২০% অবশ্যই বিনিয়োগ করুন এমন কোনো জায়গায় যেটা আপনার ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে (পেনশন ফান্ড, রিটায়ারমেন্ট ফান্ড প্রভৃতি)।

৯. 6X Emergency Rule – আকস্মিক প্রয়োজন 

আর্থিক উপদেষ্টাদের মতে আপনার মাসিক খরচের অন্তত ৬ গুণ টাকা যেন আপনার কাছে সর্বদা থাকে যাতে কোনোরকম অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এলেও আপনি সহজেই সেটা সামলে নিতে পারেন। 

আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি ১২ গুণ অর্থাৎ আপনার পুরো একবছরের সংসার খরচ অবশ্যই Liquid Money হিসেবে প্রস্তুত করে রাখুন।

১০.  Life Insurance ও Health Insurance  –

এই সূত্রটি দশ নম্বরে লিখলেও এটাই সবচেয়ে জরুরি, আপনার বার্ষিক আয়ের অন্তত ২০ থেকে ২৫ গুণ টাকা coverage দেবে এরম Term Insurance অতি অবশ্যই করান এবং আপনার পরিবারের সকল সদস্যের Coverage সহ (৫ – ৭ লক্ষ টাকা) হেলথ Insurance ও করে রাখতেই হবে।

Think & Grow Rich বাংলা সারমর্ম

The Psychology of Money বাংলা সারমর্ম

টাকার ইতিহাস কি? টাকার বিবর্তন কিভাবে হলো?

DMCA.com Protection Status

Spread the love

Leave a Comment

error: Content is protected !!