ভগবানপুরের রাধাগোবিন্দ জিউয়ের নবরত্ন মন্দির: ইতিহাস, স্থাপত্য ও বৈশিষ্ট্য

by

অবস্থান ও পরিচয়

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত “জুখিয়া” গ্রামে অবস্থিত শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ জিউয়ের নবরত্ন মন্দির।

এটি বাংলার ঐতিহ্যবাহী রত্ন শৈলীর দৃষ্টান্ত।

রাধাগোবিন্দ জিউয়ের নবরত্ন মন্দির

নির্মাণ ইতিহাস

  • নির্মাণকাল: ১৮ শতকের শেষভাগ (প্রায় ১৭৮০-১৭৯০ খ্রিষ্টাব্দ অনুমান)
  • প্রতিষ্ঠাতা: স্থানীয় গোস্বামী পরিবারের উদ্যোগে মন্দির নির্মাণ
  • উদ্দেশ্য: রাধাগোবিন্দ জিউ ও রাধারানী বিগ্রহের পূজা

স্থাপত্যশৈলী ও বৈশিষ্ট্য

  • নবরত্ন শৈলী:
    • কেন্দ্রীয় একটি প্রধান শিখর, চারটি কোণায় ছোট রত্ন, প্রতি দেয়ালের উপর দু’টি করে মোট আটটি রত্ন—সব মিলিয়ে ন’টি রত্ন। তাই “নবরত্ন”।
  • উঁচু ভিত্তিবেদি:
    • মন্দিরটি উঁচু ভিত্তিতে নির্মিত, সামনের দিকে ত্রিখিলান প্রবেশদ্বার।
  • অঙ্গন/অলিন্দ:
    • গর্ভগৃহের সামনে প্রশস্ত অলিন্দ এবং দুটি দরজা (পূর্ব ও দক্ষিণদিক)।
  • অলংকরণ:
    • পোড়ামাটির কারুকাজ (টেরাকোটা) দিয়ে সাজানো সামনের দেওয়াল, প্যানেলে দুর্গা, মারীচবধ, সীতাহরণ, কৃষ্ণলীলা, দশাবতার ও সামাজিক বিষয়।
    • ভিতরে গর্ভগৃহে রাধাগোবিন্দ ও রাধারানীর বিগ্রহ রয়েছে।

টেরাকোটা শিল্প

  • প্রবেশদ্বারের ওপর, দেয়াল ঘিরে—দশাবতার, কৃষ্ণলীলা, শাক্ত ও বৈষ্ণব ধারা, সামাজিক ও যুগান্তকারী ঘটনা।
  • টেরাকোটা ফলকে সপরিবারে দুর্গা, রামায়ণ মহাভারতের দৃশ্য, কৃষ্ণের বিভিন্ন কীর্তি।
  • প্রতিষ্ঠানকালীন কাজগুলি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও শৈল্পিক, যদিও কয়েকটি ফলক সময়ের সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত।

পূজা ও সংস্কার

  • প্রতিদিন রাধাগোবিন্দ ও রাধারানী বিগ্রহে পূজা হয়।
  • মন্দিরটি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তত্ত্বাবধানে সংরক্ষিত; সম্প্রতি সংস্কার কাজও হয়েছে/চলছে।

দর্শন ও প্রাসঙ্গিক তথ্য

  • মন্দিরচত্বরে দোলমঞ্চ (পঞ্চরত্ন ধরণ), রাসমঞ্চ, শিবমন্দির ও জলাশয় রয়েছে।
  • দোলযাত্রা, জন্মাষ্টমী, রাস উৎসবে বিশেষ পূজা হয়।
  • মন্দিরের সৌন্দর্য, স্থাপত্য ও টেরাকোটা কাজ দেখতে পর্যটক ও পূণ্যার্থীরা আনাগোনা করেন।

চার বাংলা মন্দির

ভিক্টোরিয়ার পরী

Spread the love

Leave a Comment

error: Content is protected !!