আনারসা কি?
আনারসা বিহার, মহারাষ্ট্র ও নেপালের ঐতিহ্যবাহী একটি রাইস কুকি বা মিষ্টান্ন, যা বিহারের গয়া অঞ্চলে বিশেষভাবে জনপ্রিয়।
এটি মূলত উৎসব, বিশেষত দীপাবলি, বিহার, বিয়ে, তিহার/ছট পূজা ইত্যাদির অঙ্গ হিসেবে তৈরি ও পরিবেশন করা হয়।
ইতিহাস ও সামাজিক সংযোগ
- মাটির ঘরে, গৃহস্থবাড়িতে বিহারী মহিলারা বিয়ে, দীপাবলি, শক্তি–উৎসবে আনারসা তৈরি করেন, এবং যুগ যুগ ধরে এটি বিহারী মিষ্টির তালিকার অন্যতম।
- সামাজিক উৎসবে ‘কনের বাক্স’–এর অংশ হিসেবে বহুদিন ধরে আনারসা থাকার রেওয়াজ ছিল। কয়েক মাস ধরে সংরক্ষিত রাখার মতো শুকনো-মিষ্টান্ন হিসেবে গণ্য।
- বিহার ছাড়াও মহারাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে পাওয়া যায়, তবে প্রস্তুতি, গঠন, রং, ও স্বাদে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
প্রস্তুতির পদ্ধতি ও প্রধান উপাদান
- চাল (সাধারণত ধীরে ভেজানো ও শুকিয়ে পিষে)
- গুড় (আখের গুড়, কখনও চিনি)
- সাদা পোস্ত বীজ (খাসখাস)
- ঘি (পরিষ্কার মাখন)
- চাল ৩-৪ দিন জলে ভিজিয়ে রেখে, রোদে শুকিয়ে ভালো করে মিহি পিষে গুঁড়ো করা হয়।
- এই চালের গুঁড়ো ও গুড় মিশিয়ে ময়দা তৈরি হয়, তারপর ৪-৫ দিন ঢেকে রেখে পরিপক্ক করতে হয়—এটাই আনারসার গুণগত ফারাক।
- ময়দা পোস্তবীজে গড়ানো হয় ও ছোট রুটির/বিকৃত গোলাকৃতি কুকি বানিয়ে মাটি বা ঘিয়ের কড়াইয়ে ধীরে ভাজা হয়।
স্বাদ, আকৃতি, ও বৈশিষ্ট্য
- আনারসা বাহ্যত দেখতে ছোট, গোল, হালকা হলুদ, উপরিভাগে পোস্তবীজের স্তর।
- স্বাদে মিহি রাইস কুকি, গুড়ের মিষ্টতা ও ঘিয়ের সুবাস।
- এটি বহুদিন ভাল থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ ‘ফেস্টিভাল কুকি’ হিসেবে বিহারিদের ঘরে ঘরে প্রচলিত।

নাম ও সংস্কৃতি
- ‘আনারসা’ নামটি বিহারের স্থানীয় ভাষার ‘আন’ (আনন্দ)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
- মহারাষ্ট্রে এটি ‘আনারসা’ বা ‘আনারস দই’ নামে পরিচিত, নেপালেও রাইস-বিস্কুট হিসেবে বিখ্যাত।
- বিহারের জনপ্রিয় মিষ্টিগুলির মধ্যে বেলগ্রামী, খাজা, থেকুয়া, পারবাল কী মিঠাই–এর সঙ্গে আনারসা অন্যতম।
সারাংশ
আনারসা শুধু বিহারের মিষ্টি নয়, এটি ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, নারীর পরিশ্রম ও উৎসবের আনন্দের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
চাল, গুড়, ঘি, পোস্তবীজ—এই সহজ উপাদানে তৈরি হলেও প্রস্তুতিতে যত্ন ও সময়ের নিখুঁত সমন্বয়ে এটি বিহার, মহারাষ্ট্র, নেপাল–সব অঞ্চলেই বিশেষ ‘শ্রেষ্ঠ’ উৎসবজাত মিষ্টান্ন।
রসগোল্লা: বাংলার সেরা মিষ্টির ইতিহাস
নিখুঁতি: এক ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মিষ্টি