কুরুমবেড়া দুর্গ কোথায় অবস্থিত?
কুরুমবেড়া দুর্গ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি ব্লকের গগনেশ্বর গ্রামে অবস্থিত। এটি ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব জরিপ বিভাগের অধীনে সংরক্ষিত একটি প্রাচীন দুর্গ।
কলকাতা থেকে প্রায় ১৩০-১৬০ কিলোমিটার দূরে এই দুর্গটি রয়েছে, যা ভ্রমণপ্রিয় এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যপ্রেমীদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য।
ইতিহাস
- “কুরুম” শব্দের অর্থ ‘কচ্ছপের খোলের মতো দুর্ভেদ্য পাথরের প্রাচীর’। অর্থাৎ পাথরের দুর্গ। আবার ‘কুর্ম’ শব্দের অপভ্ৰংশ থেকেই কুরুম এসেছে বলে মনে করা হয়।
- ১৫শ শতাব্দীতে ওড়িশার রাজা কপিলেন্দ্র দেব (১৪৩৪-১৪৬৭) এই দুর্গ নির্মাণ করেন মোগল আক্রমণ থেকে সীমানা রক্ষার জন্য।
- ১৬৯১ সালে মোগল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের আমলে তহির খাঁ নামক সেনাপতি দুর্গ দখল করে এবং দুর্গের মন্দির ধ্বংস করে। পরে সেই জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।
- মারাঠারা ১৭৫১ সালে এই এলাকায় রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৭৯০ সালে ইন্দোরের রানী অহল্যাবাঈ হোলকার পুরী পর্যন্ত পথের সংস্কার করেন।

স্থাপত্য ও বৈশিষ্ট্য
- আয়তাকার দুর্গ: পূর্ব-পশ্চিম ৩০০ ফুট, উত্তর-দক্ষিণ ২২৫ ফুট চওড়া। প্রাচীর ১২ ফুট উঁচু ও ৩ ফুট পুরু।
- দুর্গের ভেতরে একটি শিবমন্দির ছিল যার নাম গগনেশ্বর। শিব মন্দিরের পাশে বড় জলাশয় ছিল যা পানীয় জল সরবরাহ করত।
- দুর্গের মধ্যে একটি বড় উঠান এবং তিনটি গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ রয়েছে যা ইসলামি স্থাপত্যের অনন্য উদাহরণ।
- দুর্গের দেয়ালে বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের চিত্রাবলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক খেলাধুলার স্থান রয়েছে।
বর্তমান অবস্থা
- বর্তমানে কুরুমবেড়া দুর্গ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত এবং তা এখন পুরাতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে সংরক্ষিত।
- দুর্গটির বেশিরভাগ অংশ প্রায় অক্ষত রয়েছে এবং দর্শনার্থীরা এখানে ইতিহাসের সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন।
পরিবহন ও যাতায়াত
- কলকাতা থেকে NH-6 মুম্বাই-কলকাতা হাইওয়ে হয়ে বাস বা গাড়ির মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থানে সহজেই পৌঁছানো যায়।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
কুরুমবেড়া দুর্গ ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের এক দৃষ্টান্ত।
পর্যটক ও গবেষকদের জন্য এটি একটি আদর্শ ভ্রমণস্থান যা বহু প্রাচীন যুদ্ধের স্মৃতি উদ্দীপন করে এবং পরিবেশ ও স্থাপত্যের সমন্বয় রক্ষা করে।
কুরুমবেড়া দুর্গ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি ব্লকের গগনেশ্বর গ্রামে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ।
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ওড়িশার রাজা কপিলেন্দ্র দেব নির্মাণ করেছিলেন এটি, মূলত মোগল আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য।
দুর্গটি আয়তাকার, প্রাচীরটি স্থানীয় মাটির প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে নির্মিত এবং ১২ ফুট উঁচু ও ৩ ফুট পুরু।
ভিতরে খিলানযুক্ত প্রকোষ্ঠ ও একটি পদ্মফুল অলঙ্কৃত অলিন্দ রয়েছে।
দুর্গের মধ্যবর্তী অংশে শিবমন্দির এবং ব্যাপক জলাশয় ছিল, যা পানীয় জলের প্রয়োজন মেটাত।
মোগল আমলে এই দুর্গ দখল হয় এবং ধর্মীয় পরিবর্তন ঘটে, যেমন একটি মসজিদ নির্মিত হয়। পরে মারাঠারা এই দুর্গ দখল করেছিল।
বর্তমানে এটিকে পুরাতাত্ত্বিক সাইট হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়। কলকাতা থেকে NH-6 সড়ক হয়ে সহজে পৌঁছানো যায় এই দুর্গে।
দুর্গটির ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটক এবং ইতিহাস প্রেমীদের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্র।
ভগবানপুরের রাধাগোবিন্দ জিউয়ের মন্দির